সোমবার, ০৬ Jul ২০২৬, ১১:৫২ অপরাহ্ন

বিয়ের মৌসুমেও বন্ধ কমিউনিটি সেন্টার

নিজস্ব প্রতিবেদক, নগরকন্ঠ.কম : বিয়ের মৌসুম শুরু হলেও ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের কমিউনিটি সেন্টারগুলো এখনও বন্ধ রয়েছে। কবে খোলা হবে, এ ব্যাপারে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার এখনও কোনো উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য মধ্যবিত্তের ভরসা সরকারি কমিউনিটি সেন্টার। এসব মানুষ প্রতিদিনই সিটি কর্পোরেশনের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন। কিন্তু দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে ইতিবাচক কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে পারছে না।

প্রতিবছর বর্ষার পর থেকে শীত মৌসুমের শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশে বিয়ের সংখ্যা বেশি হয়। এ সময়টাকে বিয়ের মৌসুম বলা হয়ে থাকে। করোনার কারণে গত মার্চ থেকে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের কমিউনিটি সেন্টারগুলো বন্ধ রয়েছে। বেসরকারি পর্যায়ের অভিজাত কনভেনশন সেন্টার বা পাঁচ তারকা হোটেলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে স্বল্প পরিসরে বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠান শুরু হলেও মধ্যবিত্তদের বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠান করার সুযোগ সৃষ্টির ব্যাপারে দুই সিটি কর্পোরেশনের কোনো তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের-ডিএসসিসি ৩৪টি কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে। এর মধ্যে ১১টি বিভিন্ন সরকারি সংস্থার অফিস হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। বাকি ২৩টি কমিউনিটি সেন্টার বিয়ে এবং সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রতিদিন এসব কমিউনিটি সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে ভাড়া নিতে আগ্রহীরা যোগাযোগ করছেন। কিন্তু তারা কোনো জবাব দিতে পারছেন না। ডিএসসিসির সমাজ কল্যাণ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে সবই তো সচল হয়েছে। বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানও বন্ধ নেই। নিম্ন এবং মধ্যবিত্তরা ঘরোয়া পরিবেশে এবং উচ্চবিত্তরা পাঁচ তারকা হোটেল বা স্বল্পপরিসরে চালু হওয়া কনভেনশন সেন্টারগুলোতে তাদের প্রয়োজন মেটাচ্ছেন। প্রতিদিনই মানুষ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছে। এ মৌসুমে কমিউনিটি সেন্টারগুলোর ভাড়া বেশি হয়, রাজস্ব আয়ও বেশি হয়। এ কারণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়টি বিবেচনা করে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দিলে নগরবাসী উপকৃত হবে। পাশাপাশি ডিএসসিসির রাজস্ব আয়ও বাড়বে।

আর ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের-ডিএনসিসি কমিউনিটি সেন্টার রয়েছে ১৪টি। এ কমিউনিটি সেন্টারগুলোও সরকারের একই নির্দেশে বন্ধ রয়েছে। গত মার্চ থেকে বন্ধ থাকা কমিউনিটি সেন্টারগুলো খুলে দেয়ার দাবি তুলেছেন নগরবাসী। কিন্তু এ ব্যাপারে ডিএনসিসি কর্তৃপক্ষও খুলে দেয়ার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ডিএনসিসির সমাজ কল্যাণ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানের জন্য অনেকে কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে খোঁজখবর করছেন। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কমিউনিটি সেন্টারগুলো খুলে দেয়ার ব্যাপারে এখন সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ঢাকায় পাঁচ তারকা হোটেল বা অভিজাত মানের কিছু কনভেনশন সেন্টার স্বাস্থ্যবিধি মেনে আনুষ্ঠানিকতাও সেরে ফেলছেন। এছাড়া হোটেল রেস্টুরেন্ট খোলা থাকায় অনেকে স্বল্প পরিসরে এসব স্পটও খাবার আয়োজনের জন্য বেছে নিচ্ছেন। পুরান ঢাকার শহীদ নগর এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত কাজী মো. মিজানুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর বিয়ে শুরু হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে গড়ে অন্তত ৫টি বিয়ে হচ্ছে। তবে সবই ঘরোয়াভাবে এসব অনুষ্ঠান হচ্ছে। কেউ পরবর্তীতে অনুষ্ঠান করবেন এমন চিন্তা রয়েছে। ডিএসসিসির সমাজ কল্যাণ কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) একেএম লুৎফর রহমান সিদ্দিক যুগান্তরকে বলেন, ডিএসসিসির কমিউনিটি সেন্টার খোলার ব্যাপারে আমরা এখনও কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত দেবে সেটা বাস্তবায়ন করা হবে। একই বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান সমাজ কল্যাণ ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা তাজিনা সারোয়ার যুগান্তরকে বলেন, কমিউনিটি সেন্টার খোলার ব্যাপারে এখনও সিদ্ধান্ত হয়নি। জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবিএম আমিন উল্লাহ নুরী যুগান্তরকে বলেন, কমিউনিটি সেন্টারগুলো খুলে দেয়ার বিষয়ে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। একই বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজা যুগান্তরকে বলেন, কমিউনিটি সেন্টারগুলো খুলে দেয়ার দাবি তুলেছেন অনেকে। স্বাস্থ্যবিধি কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সে বিষয়গুলো ঠিক করে কমিউনিটি সেন্টার দ্রুত খুলে দেয়ার চিন্তা করছি।

নগরকন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com